রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক থেকেও ফলপ্রসূ কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শঙ্কা আছে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া নিয়েও। দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে সবগুলো বাজার আদর্শে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১ শতাংশেরও বেশি। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে কমেছে ব্যারেলে ৯৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬৫ ডলার ৮৫ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৬২ ডলার ৮০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ ডলার ১৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ কম। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম যথাক্রমে ১ দশমিক ৭ ও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
এর আগে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে ট্রাম্প শুক্রবার আলাস্কায় পৌঁছান। বৈঠকের আগে তিনি ঘোষণা দেন, ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চান। যদিও দুই নেতার বৈঠকে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বৈঠক শেষে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর নির্ভর করছে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যদিকে চীনের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, জুলাইয়ে শিল্পোৎপাদন আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। এ সময় খুচরা বিক্রয় ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে কম হারে বেড়েছে। যদিও জুলাইয়ে দেশটির জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারের উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটি জুনের তুলনায় কম।
এদিকে ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ওপেক প্লাস জোটভুক্ত দেশগুলো থেকে সরবরাহ বাড়ায় আগামী এক বছরের বেশি সময় বাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত আরো বাড়বে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত গড়ে দৈনিক ৮ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত সরবরাহ থাকতে পারে।